কৃষিতে অতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহারে হাওরের মৎস্য সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

বাসস
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৫৫
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জ, ৩১ আগস্ট, ২০২৫(বাসস) : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হাওর বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের মোট বোরো ধান উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক হাওরাঞ্চল থেকে আসে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারে হাওরের মৎস্য সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

উপদেষ্টা আজ সকালে জেলার মিঠামইন উপজেলা পরিষদ হলরুমে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। 

জেলা প্রশাসন ও কিশোরগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।  

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, হাওরাঞ্চলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় কৃষিখাতে বালাইনাশক ব্যবহার সীমিত করতে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কীভাবে কৃষিতে বালাইনাশক কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং একই সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এ সংক্রান্ত যে ঘোষণা আসবে, তা সবাইকে মেনে চলতে হবে।

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে হাওরে প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটছে। জমিতে পলির পরিবর্তে এখন বালি জমছে, যা প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট করছে। আবার সব প্রাকৃতিক পরিবর্তন প্রকৃতির সৃষ্টি নয়, অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য মানুষ দায়ী। 

অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, কিছু দুষ্টু মানুষ অবৈধ জাল আর ইলেকট্রনিক শক ব্যবহার করে মাছ ধরছে যা ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে।

তিনি বলেন, হাওরে পর্যটকরা ভ্রমণে এসে পরিবেশের ক্ষতি করছে অথচ স্থানীয় মানুষের কষ্ট বোঝে না। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম মহাসড়ক সড়ক নির্মাণে যথেষ্ট ব্রিজ ও কালভার্ট না থাকায় পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। আরও ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে মাছের চলাচল সহজ হবে এবং সকলেই উপকৃত হবেন।

ইজারা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ হাওরে বর্তমানে ৪৫টি ইজারামুক্ত জলাশয় ও ৩১২টি ইজারাকৃত জলাশয় রয়েছে। সরকার চায় একমাত্র প্রকৃত মৎস্যজীবীরাই যেন ইজারা পায়। সে লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।

পরে উপদেষ্টা গাবতলী ব্রিজ সংলগ্ন ইটনা হাওরে ৫৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করেন।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমতের সভাপতিত্বে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মো. আব্দুল্লা আল মামুন বক্তৃতা করেন। 

এছাড়া ইটনা উপজেলা মৎস্যজীবী প্রতিনিধি মো. স্বপন মিয়া, মিঠামইন উপজেলা প্রতিনিধি মো. আজিজুল হক এবং অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি মো. কাকন মিয়া সভায় বক্তব্য রাখেন। 

সভায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ হাওর অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
কনটেইনার অপসারণে সেপ্টেম্বরে তিনটি নিলামের ঘোষণা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের ওপর জোর ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতের
নওগাঁয় ১৩০ বছর বয়সী তফের আলির পাশে তারেক রহমান
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষে  ৬০ জন আহত: সব পরীক্ষা স্থগিত
আগামীকাল কুয়েট দিবস, নানা কর্মসূচি গ্রহণ
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড মুস্তাফিজুরের
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী
জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল লক্ষ্য : তারেক রহমান
মালনীছড়া চা-বাগান হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র
১০