অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হলে অপশক্তি পরিস্থিতি জটিল করে তুলবে: তারেক রহমান

বাসস
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ২০:৪৬
রোববার বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হলে অপশক্তি দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে। 

আজ রোববার বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র ডালপালা মেলতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হলে দেশের অপশক্তি দেশের পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে, তুলবে।’

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।’

বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে নিহত বিএনপির নেতাকর্মী ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ নেতাকর্মীদের স্মরণ করে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জনগণের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, যেন বিএনপি লক্ষ্যচ্যুত না হয়।

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে মব ভায়োলেন্সকে প্রশ্রয় না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক মুক্তি বেশি গুরত্বপূর্ণ।

নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা রকম ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। তবে, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে আমি বিশ্বাস করি, কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপির অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না।

তারেক রহমান বলেন, ৪৭ বছরের গৌরবান্বিত পথ চলায় বিএনপি বরাবরই দেশের গণতান্ত্রিক, জনগণের সহযোগিতা এবং সমর্থন পেয়ে এসেছে। তাই আসুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকের এই দিনে জনগণের কাছে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ থেকে বিএনপি যেমন অতীতে বিচ্যুত হয়নি।ভবিষ্যতেও আমরা বিচ্যুত হব না।  বিএনপির শেকড় এই বাংলাদেশ।

৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী এবং ২৪ এর ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন ও হতাহত হয়েছেন তাদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, হাজারও শহীদদের আত্মত্যাগে, শত শত আহত যোদ্ধার আর্তনাদের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ-মুক্ত বাংলাদেশে এখন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এবং সুযোগ এসেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উপায় জাতীয় নির্বাচন।

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত নয়।

নির্বাচনকে ঘিরে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে উলে¬খ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ বিনষ্ট করতে সেই অশুভ শক্তির অপতৎপরতা সাম্প্রতিক সময় ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। 

তিনি আরও বলেন, পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে তখন কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে তাদের দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নানা শর্ত আরোপ করছে এবং এর মাধ্যমে হয়তোবা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে বলে বহু মানুষ এরই মধ্যে ভাবতে শুরু করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি মনে করে আগে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে যদি ব্যর্থ হয় তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ পাবে। যা গণতান্ত্রিক বিশ্বে প্র্যাকটিস করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে সংস্কারের ব্যাপারে বিএনপি সম্পূর্ণভাবে একমত। 

গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে অবশ্যই। তবে জনগণের অধিকার চর্চা এবং প্রয়োগের পথ সৃষ্টি না করে কোনো সংস্কারকেই টেকসই করা যাবে না। পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের অভিপ্রায়ের সরকার। তবে, এই সরকারের কাছে অবশ্যই একটি দক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সরকারের মতো পারফরম্যান্স আশা করার কোনো যৌক্তিক কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। 

তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের মতন বিএনপির বিজয় ঠেকানোর অপরাজনীতির পরিবর্তে আসুন, আগে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের বাংলাদেশের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গঠন করি সকলে মিলে। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর আরও সকল যৌক্তিক দাবিগুলোর সমাধানের পথ খুঁজি। রাষ্ট্র রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শর্ত শিথিল করে নির্বাচনের পথে হাঁটাই এখন সময়ের দাবি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে  স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বাকৃবি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
মঙ্গলবার চাঁদপুরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে
চাল আত্মসাতের মামলায় খাদ্য কর্মকর্তা কারাগারে
বিটিআরসি, চরফ্যাশন ও নন্দীগ্রামে দুদকের পৃথক অভিযান
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে একমত জামায়াত
সাতক্ষীরা সীমান্তে ১৪ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ
কর্মক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষায় সব পক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান
চবিতে হামলার ঘটনায় দোষীদের বিচার দাবি ঢাবি সাদা দলের
নির্বাচনই দেশ বাঁচানোর একমাত্র উপায় : মির্জা ফখরুল
বিচার বিভাগে সংস্কার কর্মসূচির প্রায় ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে : প্রধান বিচারপতি
১০