ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে ও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে আলাদা গুরুত্ব দেয়ার বিষয়ে মতামত দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও অর্থনৈতিক সীমানা বাড়াতে গিয়ে টাকা পাচার ও বৈষম্য বাড়লেও সেদিকে একদমই মনোযোগ দেয়া হচ্ছে না।
শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি প্রায়োরিটিজ ইন রিকনস্ট্রাকটিউরিং দ্য ইকোনমি: ডায়াগনস্টিক্স, রিমিডিয়াজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।
শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. অনন্য রায়হান বলেন, শুল্ক আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন শুল্ক সহনীয় পর্যায়ে আনা হয়েছে। এটি বিশ্ববাজারে ব্যবসা করতে আমাদের সাহায্য করলেও, বিশ্ববাজারে ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে আলাদা মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের বাজারে প্রতিবছর প্রায় ২.২ মিলিয়ন তরুণ প্রবেশ করছে। তার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তরুণ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই দক্ষ নন। অথচ তারাই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতি সচল রাখছেন। তাই অর্থনীতি সচল রাখার এই বিরাট জনগোষ্ঠীকে কীভাবে আরও দক্ষ গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে।
দক্ষতা প্রশিক্ষণ বিষয়েও আমুল সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় মিলে সরকারের প্রায় ৩৮টি বিভাগ দক্ষতা অর্জন ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি সরকারি প্রশিক্ষন করতে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতাও প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু দক্ষতার তেমন গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে না। আমাদের এদিকে মনোযোগ দিতে হবে, প্রয়োজন হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ভাবতে হবে।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, বাজারের উত্থান-পতন বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। বন্যার কারণেও কাঁচাবাজারের দাম বেড়ে যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত টাকা ছাপানোয় মুদ্রাস্ফীতির কারণেও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু অর্থনীতিকে টেকসই উন্নয়নের পথে নিতে হলে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা একদিকে যেমন ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট বাড়িয়ে অর্থনীতি এগিয়ে নেয়ার কথা ভাবছি, আবার অপরদিকে বেশি দামে পন্য কিনে মানি লন্ডারিং চালাতে দিচ্ছি। আমাদের এদিকে আলাদাভাবে মনযোগ না দিলে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়ন ব্যহত হবে।
কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে দ্বিমুখী নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে আমরা কারিগরি শিক্ষার্থীদের অন্যান্যদের মতো সুবিধা দিচ্ছি না, ইনসেন্টিভ দিচ্ছি না। আবার অপর দিকে আমরা কারিগরিভাবে দক্ষ মানবসম্পদ আশা করছি।
এসব কারণেই প্রতিনিয়ত কৃষিখাত থেকে মানুষ সরে আসছে এবং চাকরি চাহিদা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশার সঞ্চালনায় ঢাকা ইন্সটিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা) উক্ত আলোচনার আয়োজন করে।