বাসস
  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৩:০৪
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৩:২৪

সাবেক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী সংসদ সদস্য শাহজাহান কামাল আর নেই

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ (বাসস) : লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের (লক্ষ্মীপুর সদর) বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য, সাবেক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম শাহজাহান কামাল আর নেই।
শনিবার রাত ৩টা ১৯ মিনিটে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শাহজাহান কামালের ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল সাংবাদিকদের বলেন, বার্ধক্যজনিত রোগে আমার বড় ভাই শাহজাহান কামাল মারা গেছেন। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম ও লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
শাহজাহান কামাল দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।
তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও তিন কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শাহজাহান কামাল প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ১৮ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরমধ্যে ২০১৮ সালে প্রায় এক বছর তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
শাহজাহান কামাল ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলার আটিয়াতলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আটিয়াতলি এলাকার ফরিদ আহমেদ ও মাছুমা খাতুন দম্পতির বড় ছেলে। তিনি ১৯৬৩ সালে লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি, চৌমুহনী মদনমোহন কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এইচএসসি পাস করেন এবং একই কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
শাহজাহান কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলায় গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নবগঠিত লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
২০১১ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ২০০৯ সালে জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।