কুমিল্লা, ২৯ আগস্ট ২০২৫ (বাসস): নানা আয়োজনে আবৃত্তি সংসদ কুমিল্লার ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে। এ সময় নবগঠিত কমিটির অভিষেকও হয়।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসা সংগঠনটি এবারের আয়োজনকে পরিণত করেছে এক স্মরণীয় মিলনমেলায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আবৃত্তিশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও শ্রোতাদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানে ছিল আলো প্রজ্বলন, কেক কাটা, শুভেচ্ছা বক্তব্য, নবগঠিত কমিটির অভিষেক এবং একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশনা।
শুরুতে ৩৩টি মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে কেক কেটে ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে উৎসবে যোগ হয় বাড়তি রঙ। নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ স্বাগত বক্তব্য দেন।
আবৃত্তি সংসদ কুমিল্লার নবনির্বাচিত সভাপতি সুমনা সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী, ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু, অধ্যক্ষ নিখিল রায়, নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহজাহান চৌধুরী, সংগীতশিল্পী ইশতিয়াক পল্লব এবং নজরুল ইন্সটিটিউট কর্মকর্তা মো. আল আমিন।
নতুন কমিটির অভিষেক পর্ব উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও উপদেষ্টা অধ্যাপক রতন ভৌমিক প্রণয়। অনুষ্ঠানে একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের আবৃত্তি বিভাগ এবং পরম্পরায় কিশোর-কিশোরী বিভাগ পরিবেশন করে দলীয় আবৃত্তি। একক আবৃত্তি করেন মৃত্তিকা আবৃত্তি সংগঠনের রুবেল কুদ্দুস, কবিতাবৃত্তের সুলতানা পারভীন দীপালি, শানিত উচ্চারণ কুমিল্লার জীৎনাথ, কণ্ঠসাধন চান্দিনার সারোয়ার নাঈম, শব্দশ্রুতি কুমিল্লার কাজী জহির, ধ্বনিচিত্র বিনির্মাণ পাঠশালার তানিয়া সুমাইয়া, ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের মো. ফয়সাল এবং ঢাকার শ্রুতিঘর শিল্পী জি এম মহসিন।
আবৃত্তি সংসদ কুমিল্লার শিল্পীদের মধ্যে পরিবেশনায় অংশ নেন রজন সাহা, দেবযানী পাল, অন্তরা আইচ, আহমেদ রাসেল ও বিপ্লব সাহা।
সবশেষে দেশবরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক কাজী মাহতাব সুমনের প্রাণবন্ত আবৃত্তি পুরো অনুষ্ঠানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন নির্বাহী সদস্য স্যাম মামুন ও নুর হোসেন রাজীব।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবৃত্তি সংসদ কুমিল্লা কবিতা ও আবৃত্তিচর্চার মাধ্যমে অনন্য সাংগঠনিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছে।