জনবল সংকটে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বাসস
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৫, ১৬:০৯
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : বাসস

 বাবুল আখতার রানা 

নওগাঁ, ৮ মার্চ ২০২৫ (বাসস) : জনবল সংকটে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার বাসিন্দারা। 

প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন ৪০০ থেকে ৪৫০জন রোগী। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররাই বর্তমানে রোগীদের একমাত্র ভরসা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে যে চার জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন তাদের দিয়ে কোন রকমে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে জরুরি ও অন্ত:বিভাগের কাজ। একই সাথে রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও আবাসিক কর্মকর্তাসহ রয়েছেন মাত্র ৪ জন। এর মধ্যে ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে পর্যায়ক্রমে জরুরি ও অন্ত:বিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটে ছোট ছোট সমস্যাতেও রোগীদের পাঠানো হচ্ছে নওগাঁ কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আয়া, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট রয়েছে। আয়া ও ওয়ার্ডবয় পদে ৫ জনের বিপরীতে রয়েছে ২ জন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৫ পদের জায়গায় আছে মাত্র ১ জন। বহির্বিভাগে নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডাক্তার দেখাতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকে।

কশব ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী শামীম হোসেন বলেন, ‘বুকের ব্যথার চিকিৎসা নিতে আমি ১৫ কিলোমিটার দুর থেকে হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু কোনো বড় ডাক্তার পাইনি। অবশেষে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি। ভাল একজন ডাক্তারকে দেখানোর আশা নিয়ে এতদূর থেকে এসেছিলাম। তা পূরণ হয়নি, সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হলো।’

উপজেলার গোসাইপুর গ্রাম থেকে হার্ট, ডায়াবেটিস ও বুকের ব্যথার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন রোগী রবিউল ইসলাম টিপু। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো ডাক্তার নাই। কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারেরা দেখে একটা চিরকুটে কি কি লিখে দিল তা দেখে ভাল লাগেনি। তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। আগামিতে রাজশাহী শহরে গিয়ে ভাল ডাক্তার দেখাব।’

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী সুনীল কুমার বলেন, এক সময় এ হাসপাতালে অনেক ডাক্তার থাকায় বৈকালিক চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছিল। ভাল মানের চিকিৎসা পাওয়ায় ওই সময় হাসপাতালে রোগীর ভিড় লেগেই ছিল। এখন খুঁজেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। এখন রোগীর চাপ বাড়লেও ডাক্তার না থাকায় সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের সামান্য দূরে হাসপাতালটির অবস্থান হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি। মহাসড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য আহতদের এ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের পাঠানো হয় নওগাঁ কিংবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে পথেই অনেক সময় রোগীর মৃত্যু ঘটে।  

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ হাসপাতালে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক আছেন। এদের দিয়ে কোনভাবে জরুরি ও অন্ত:বিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ সমস্যা থেকে উত্তরণ হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার প্রধানের বৈঠক 'আশার আলো' তৈরি করছে: মির্জা ফখরুল
সাতক্ষীরায় দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের টিম ওয়ার্ক, ঈদের বন্ধে চট্টগ্রামে ১০৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন
প্রধান উপদেষ্টা থাইল্যান্ডকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন 
নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজনীতির আমূল পরিবর্তন করতে চায় এবি পার্টি
চুরি হওয়া অর্থ ফেরাতে কলম্বোর সহায়তা চেয়েছে ঢাকা
ঢাকার উদ্দেশে ব্যাংকক ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
ইংলিশ লিগ: ফার্নান্দেসের গোলে স্বস্তির জয়ে চতুর্থ স্থানে চেলসি
ব্যক্তিগত কারণে আইপিএল ছেড়ে দেশে ফিরে গেছেন রাবাদা
ম্যান সিটি ছাড়ছেন ডি ব্রুইনা
১০