ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন
নাটোর, ২৯ আগস্ট ২০২৫ (বাসস): গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে তৎপর হয়েছেন জেলার কৃষকেরা। পরম যত্নে গড়ে তোলা বীজতলাকে কেন্দ্র করে স্বপ্ন বুনছেন তারা।
সামনের মাসেই তাদের স্বপ্ন পূরণে বীজতলার চারা রোপণ করা হবে আবাদি জমিতে। উচ্চ মূল্য ফসলের তালিকায় রয়েছে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ।
জানা গেছে, জেলার ৬০০ কৃষককে ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা প্রদান করেছে সরকার। সার, বীজ ও চারা উৎপাদন খরচ বাবদ এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষক পর্যায়ে এক কেজি করে নাসিক রেড এন-৫৩ জাতের উচ্চ ফলনশীল বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার এবং এক কেজি করে বালাইনাশক প্রদান করা হয়েছে।
নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান জানান, উপজেলার ৮০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। ছাতনী ও হালসা ইউনিয়নের কৃষকরা এই পেঁয়াজ চাষে অভ্যস্ত। এই পেঁয়াজ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে নভেম্বর মাসে পেঁয়াজের সংকট দূর হবে বলে আশা রাখি।
ভারী বৃষ্টির কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ছাতনী এলাকার কৃষক কদর আলী বলেন, বীজতলা নষ্ট হলেও স্বপ্ন তো আর নষ্ট হয়নি। তাই আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করেছি। কারণ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ অত্যন্ত লাভজনক ফসল।
উপজেলার হালসা ইউনিয়নের বাগরোম গ্রামে পাঁচ কাঠা জমিতে বীজতলা তৈরি করা কৃষক আব্দুল করিম জানান, এখন বীজতলা পরিচর্যা করছি, মাটি ভেদ করে সবুজ স্বপ্নে চারার অঙ্কুরোদগম হচ্ছে। সামনের মাসে জমিতে চারা বুনতে পারবো।
গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে পথিকৃৎ জেলার নলডাঙ্গা উপজেলা। এই মৌসুমে উপজেলার ২২০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। প্রণোদনায় প্রাপ্ত বীজ দিয়ে উপজেলার প্রায় এক হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকরা। এসব বীজতলার বেশিরভাগ উপজেলার সড়কুতিয়া এলাকায়।
এই এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, জমিতে মাটি ফেলে জৈব সার মিশিয়ে বীজতলার বেড তৈরি করেছি। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে উপরে ত্রিপল দিয়ে ছাউনি করেছি। ১০ দিন হলো বীজতলার বয়স। সেচ দিচ্ছি। অনেক ভালো মানের চারা গজিয়েছে।
একই এলাকার কৃষক মো. আব্দুল আলিম জানান, সরকার তো বিনামূল্যে বীজ, সার আর বালাইনাশক দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
জমিতে চারা রোপণ করতে পারলে তেমন পরিচর্যার দরকার হয় না। ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যেই খরচ সীমাবদ্ধ থাকে।
নলডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার কৃষক শাহাদত হোসেন জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ অত্যন্ত লাভজনক। বিগত মৌসুমে খরচ বাদে এক বিঘা জমি থেকে দুই লাখ টাকার বেশি লাভ করেছি।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে প্রায় এক হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকরা। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসস’কে বলেন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকদের উচ্চ মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি শীতে দেশে পেঁয়াজের সংকটে চাহিদা পূরণে অনন্য ভূমিকা রাখে এই পেঁয়াজ। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।