সাতক্ষীরা, ২৯ আগস্ট ২০২৫ (বাসস) : সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে বনদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে লোকালয়ে ফিরেছে অপহৃত ৭ জেলে। তাদের দাবিকৃত আড়াই লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের সাকাত সরদারের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম, পারশেখালী গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল হামিদ, টেংরাখালী গ্রামের সুজন মুন্ডার ছেলে সুজিত মুন্ডা, কালিঞ্চি গ্রামের কেনা গাজীর ছেলে রকিবুল ইসলাম, কালিঞ্চি কলোনি পাড়ার আব্দুস সাত্তারসহ আরো দু’জন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত সোমবার ও মঙ্গলবার পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের দাড়গাং এলাকার নিকটস্থ খাল থেকে ছয় সদস্যের একটি বনদস্যু দল মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ২টি নৌকাসহ এসব জেলেদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ফিরে আসা জেলে ইব্রাহিমের চাচা সাহেব আলি জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বনবিভাগ থেকে পাশ পারমিট নিয়ে তারা সুন্দরবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জাল-দোড়াসহ বাজার সদাইয়ের পাশাপাশি নৌকা মেরামতের কাজে ইতিমধ্যে তারা সব পুঁজি শেষ করে ফেলেছেন। এমন মুহূর্তে বনদস্যুদের হাতে আটক হওয়ার পর মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।
তিনি জানান, দস্যুরা মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করলেও অনেক অনুনয়-বিনয় করে একপর্যায়ে সাতজনে মিলে তারা মোট আড়াই লাখ টাকা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে ভাইপো ইব্রাহিমসহ জিম্মি সাত জেলে বাড়ি ফিরেছেন।
ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, ছয় সদস্যের বনদস্যু দলটি নিজেদেরকে কাজল বাহিনী বলে পরিচয় দিয়েছে। তারা একটি ডিঙ্গি নৌকা ও চারটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছোট বৈকেরী খালের মধ্যে অবস্থান করছিল।
ফিরে আসা জেলে সুজন মুন্ডার ছেলে সুজিত মুন্ডা জানান, জলদস্যুরা তাদের মারধর করেনি। তবে, শুরুতে তারা মাথা পিছু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও পরবর্তীতে মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লালটু জানান, অপহরণের শিকার জেলারা বাড়ি ফিরে এসেছে। ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেলেও অপর দুই জনের নাম জানা যায়নি।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. ফজলুল হক জানান, অপহরণের বিষয়টি লোকমুখে তারা শুনেছিলেন। তবে, বনদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধে মৌসুম শুরুর আগে থেকেই স্মার্ট পেট্রোল টিমসহ বন কর্মীদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, জেলেদের ফিরে আসার বিষয়টি এখনো কেউ পুলিশকে জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ খুবই তৎপরতার সাথে কাজ করছে।