মুন্সীগঞ্জ, ২২ মার্চ, ২০২৫ (বাসস) : জেলার বিস্তীর্ণ ইরি-বোরো ধানের মাঠে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ । কৃষক ধান ঘরে তুলতে ধান গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
জেলায় চলতি রবি মৌসুমে ২৪ হাজার ৬১৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয় যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩৮ হেক্টর বেশী। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৪ হাজার ২২ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের সম্বাবনা রয়েছে। ধানের বাজার মূল্য ভালো থাকায় এবং সার , কীটনাশকের দাম কম থাকায় কৃষক এবার ধান চাষে আগ্রহ দেখিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৪ হাজার ৬১৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। এর মধ্যে সদরে ১০৭৮ হেক্টর, টংগিবাড়ীতে ২৫১৭ হেক্টর, লৌহজেং ৩১৬৭ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৫২৯৫ হেক্টর, গজারিয়ায় ২৫০৪ হেক্টর এবং শ্রীনগরে ১০০৫৬ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষ হয়।
ফলনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৪ হাজার ২২ মেট্রিক টন।জেলার সবচেয়ে বেশী ধান উৎপাদনকারী উপজেলা শ্রীনগর। এখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , কৃষক জমিতে সেচ , সার ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছে। গাওঁদিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক কুদ্দুস বাসসকে জানান বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইরি বোরো মৌসুমে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করায় দাম কম ছিল এবং কীটনাশকের ন্যায্য মূল্য থাকায় এ বছর কৃষক ধান চাষে আগ্রহী হয় এবং চাষ বেশী হয়। কৃষক স্বপন জানান তিনি এবার সাড়ে ৩ শতক জমিতে ধান চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় , সার সংকট না থাকায় এবং সময় মতো সেচ দিতে পারায় বাম্পার ফলনের সম্বাবনা রয়েছে। আগামীতে সামান্য বৃষ্টি হলে জমিতে রোগ বালাই লাগবে না , ফলন ভালো হবে ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিল্পব কুমার মোহন্ত জানান , আগামী ২ মাস আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, কোন প্রাকৃতিক দুূর্যোগ না হলে বোরোর বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবে।তিনি জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানের (হাইব্রিড) আবাদ বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামুল্যে কৃষি প্রোণোদনা কর্মসূচি জিও-২৮০ অধীন জেলার ৪০০০ কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ প্রদান করেছে।এছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বোরো ধানের (উফসী জাত) সমলয় চাষাবাদের জন্য শ্রীনগর এবং লৌহজং উপজেলায় ৩০০ জন কৃষককে প্রোণোদনা
দেওয়া হয়।