সাতক্ষীরা, ৩ এপ্রিল, ২০২৫ (বাসস) : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে এখনো লোকালয়ে পানি ঢুকছে। গত চার দিনেও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। প্লবিত হয়েছে ১০টি গ্রাম। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ খুবই কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন। তবে সেনাবাহিনীর দুটি টিমের সর্বাত্নক সহযোগিতায় বুধবার থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃক নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন সেখানে জিও টিউবের ব্যাগের মধ্যে বালু ভরে বিকল্প রিংবাধ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইতিমধ্যে আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহমুদ, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ, যশোর সেনানিবাসের লে. কর্নেল নাবিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়সহ অন্যান্যরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ।
এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহমুদ জানান, বাঁধের যে অংশ টুকু ভেঙে গেছে সেখানে ইতোমধ্যে জিও টিউব দিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে। আজ অধিকাংশ জিও টিউবের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। অল্প কিছু বাকী থাকবে সেটা শুক্রবার শেষ হবে। কাজ শেষ হলে আর এই ভাঙন দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে না। এই এলাকার মানুষ যাতে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায় সেজন্য স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নিমার্ণের বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩১ মার্চ ঈদের দিন সকাল ৯টার দিকে পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় দুই’শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ করেই খোলপেটুয়া নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীর ঈদের আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হয়। হাজার হাজার স্থানীয় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দুই দিনে দফায় দফায় ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাধ নির্মাণের প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও তা জোয়ারের তোড়ে ব্যর্থ হয়। পানিবন্দি হয়ে ১২ শ’ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ৪ হাজার বিঘা মৎস্য ঘের এবং ২১ হেক্টর ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি। বিদ্যুত বিহীন রয়েছে সেখানকার তিনটি গ্রাম। প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাব। একইসঙ্গে মানুষের রান্না-খাবার, হাঁস-মুরগী ও গো খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। বানভাসি মানুষ পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র ও পাউবো’র বাঁধে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অন্যত্র আত্মীয়ের বাড়ী চলে গেছেন। ইতোমধ্যে পানিতে প্লাবিত হয়েছে আনুলিয়া ইউনিয়নের নয়াখালী, বিছট, বল্লবপুর, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, চেচুয়া, কাকবাশিয়া, মীর্জাপুর, চেউটিয়াসহ আশপাশের ১০ গ্রাম। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে আনুলিয়া ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী খাজরা ও বড়দল ইউনয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার এসময় বলেন, কিভাবে দীর্ঘ মেয়াদী একটি সুরাহা পাওয়া যায় সেজন্য আমরা একটি পরিকল্পনা করেছি। সে লক্ষে সবার সঙ্গে কথা বলছি। সব স্টেক হোল্ডারদের সহযোগিতা লাগবে। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টারও নজরে আনতে হবে। চেষ্টা করছি কিভাবে এখানে স্থায়ীভাবে কাজ করা যায়। আর প্লাবিত এলাকায় কি পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা জেলা প্রশাসক স্থানীয়ভাবে একটি জরিপ করছেন। সেটা শেষ হলে ক্ষতির পরিমাণটা নিরুপন করা যাবে। এসময় বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে কেউ যাতে পাইপ বসাতে না পারে সেজন্য সরকারি নিয়মকানুন মেনে মৎস্য ঘের করার অনুরোধ জানান তিনি। আর কেউ যদি সরকারি আইন না মেনে ঘের করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হবে বলে সতর্কতা জারি করেন।