ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ (বাসস): আগামীকাল (মঙ্গলবার) মহাকবি কায়কোবাদের ১৬৮তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে কবির গ্রামের সংগঠন মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ বাদ আছর, ঢাকার আজিমপুরে কবির কবর জিয়ারত ও দোয়ার আয়োজনের কর্মসূচি রেখেছে।
মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ সূত্র জানিয়েছে, অনিবার্য কারণবশত প্রতিবছরের মতো এ বছর মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি পদক দেয়া হচ্ছে না।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে কবি কায়কোবাদ খ্যাতিমান কবি হিসেবে দেশে-বিদেশে সমভাবে পরিচিতি। ‘কায়কোবাদ’ কবির সাহিত্যিক নাম হলেও তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাযেম আল কোরেশী। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন ও ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই কবি মৃত্যুবরণ করেন।
সেই সময়ে পোস্ট মাস্টারের চাকরি করে কবিতা লিখে তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন। ১৮৭০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাশ’ প্রকাশ হলে বাংলা সাহিত্যঙ্গণে আলোড়ন শুরু হয়। কায়কোবাদ মূলত একজন গীতিকবি। এছাড়া সনেট, মহাকাব্য, কাহিনীকাব্য ও গানেও ছিলেন সমানভাবে পারদর্শী, তৎকালীন সময়ে কবি মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন মহাকবি কায়কোবাদ।
মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদের আগলা নবাবগঞ্জের আহবায়ক এস এম আজাদ রহমান জানায়, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে কবির তেমন কোন স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না, আর যে স্মৃতিগুলো আছে সেগুলোও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। কবির মৃত্যুর পর তার পৈতৃক বাড়ির একটি অংশ বিক্রি করলেও বাকি অংশ বেদখল হয়ে আছে। কবির ভক্ত অনুরাগীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগলা গ্রামে এসে কোন স্মৃতিচিহ্ন না দেখে বিস্মিত হন। ২০০৬ সালে কবির বাড়ির সামনের রাস্তা কবির নামে একটি ফলক নির্মাণ করা হয়। ফলকটি এখন আর নেই, কে বা কারা ভেঙে ফেলেছে। ফলে রাস্তাটি যে কায়কোবাদের নামে করা তাও মুছে যাচ্ছে। কবির স্মৃতিকে সংরক্ষণ করতে হলে নবাবগঞ্জে একটি একাডেমি ও গণগ্রন্থাগার চালু করা দরকার।