সিলেট, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনার স্বচ্ছ ধারা, সবুজে মোড়া চা বাগান আর নীল জলের পিয়াইন নদী- এসবের মিলনেই গড়ে উঠেছে ‘প্রকৃতির কন্যা’ জাফলং।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার এই মোহনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রতিদিনই অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুকে টেনে আনে অমোঘ ইশারায়।
প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনাধারা এসে মিশেছে এখানকার পিয়াইন নদীতে। সেই নদীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় পাথর। পর্যটকরা সেসব পাথরের ওপর বসে বা শান্ত স্রোতের জলে পা ডুবিয়ে হারিয়ে যান এক অদ্ভুত শান্তির রাজ্যে।
প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা জাফলং ভিড় করেন। ছুটির দিনে কিংবা বিশেষ উৎসবে এখানে উপচে পড়া ভিড় জমে, যেন প্রকৃতির কোলে মানুষের মিলনমেলা বসে যায়।
ঈশ্বরদী, পাবনা থেকে পরিবার নিয়ে জাফলং ভ্রমণে এসেছেন সামশের জামাল। তারা জাফলং জিরো পয়েন্টে একটি বড় পাথরের ওপর ছবি তোলেন।
জামাল বলেন, তারা তিন দিনের সফরে সিলেটে এসেছেন। সফরের প্রথমেই জাফলং ঘুরতে এসেছেন। সবাই খুব উপভোগ করছেন। জাফলং ঘোরা ছাড়া তাদের সিলেট ভ্রমণ অপূর্ণ থাকত, তিনি যোগ করেন।
অধিকাংশ পর্যটকই স্থানীয় বা বিদেশি দলবদ্ধভাবে জাফলং আসেন। ঢাকায় একটি জার্মান দাতা সংস্থার কর্মকর্তা আব্দুর রহিম আগেও জাফলং ভ্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, এবার তিনি অফিসের ১১ জন সহকর্মীকে নিয়ে এসেছেন।
তিনি বাসসকে বলেন, ‘জাফলংয়ে পর্যটকদের সুবিধা কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আরও ভালো হতো।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক সরোয়ার আলম বলেন, জেলা প্রশাসন সেখানে পরিবেশবান্ধব টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
সংগ্রামপুঞ্জি খাসিয়া পল্লি, মায়াবি ঝর্ণা এবং জাফলং চা বাগান জাফলংয়ের অন্যান্য আকর্ষণ।
জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে ভারত সীমান্তবর্তী মায়াবি ঝরনায় পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট।
সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী জাফলং ভ্রমণে এসেছেন সেই ঝরনা দেখতে। কম বৃষ্টির কারণে এবার ঝর্ণায় পানির প্রবাহ কম, জানান ছাত্র মুরশেদ সায়েম।
তারা বলেন, ‘আমরা ঝরনা খুব উপভোগ করেছি। তবে হয়তো বর্ষাকালে আসলে আরও বেশি উপভোগ করতে পারতাম।’
জাফলং চা বাগান পর্যটকদের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নদীর তীরে অবস্থিত এই চা বাগানে বেশিরভাগ পর্যটক ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকেন। স্থানীয় আলোকচিত্রীরা পর্যটকদের গাইড হিসেবে সাহায্য করেন।
জাফলং ট্যুরিস্ট গাইড অ্যান্ড ফটোগ্রাফার কোঅপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, তাদের সমিতির প্রায় ৮০০ সদস্য রয়েছে।
তিনি জানান, ছুটির দিনে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভিড় করেন। ঈদ বা দীর্ঘ ছুটিতেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন।
পাহাড়, নদী, ঝরনা আর চা বাগানের সুমধুর সমন্বয়ে জাফলং আজ শুধু একটি ভ্রমণকেন্দ্র নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অমলিন অভিজ্ঞতার নাম। এখানে এলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন আপন হাতে সাজিয়ে দিয়েছে এক টুকরো স্বর্গ।