নেত্রকোনা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চললেও আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আর নির্বাচনে অতন্দ্র পাহারা দেবে দেশের জনগণ।’
আজ শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা শহরের ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। গুম, খুন ও রাজনৈতিক নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছিল সাত হাজার একশ’ আটাশি জনের। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শহীদ হয়েছেন এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ। আহত হয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি। এরকম একটি রাষ্ট্রীয় অনাচারের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলাম। আমার দীর্ঘ জীবনের একটি অংশ, প্রায় দশ বছর আমি নির্বাসনে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমরা প্রথম বাংলাদেশ এবং শেষ বাংলাদেশের রাজনীতি করি। আমাদের উদ্দেশ্য, রাজনীতি এবং ঠিকানা বাংলাদেশই প্রথম, সবার আগে বাংলাদেশ।’
বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘বিদেশে আমাদের কোনো প্রভু থাকবে না, বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে। যারা এদেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল, তাদের ঠাঁই হয়েছে সেই প্রভুর দেশে। এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস। এদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে, কেউ চাইলে গণতন্ত্রকে বিলুপ্ত করতে পারবে না।’
তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংঘটিত হলো, তার মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হলো। আমরা সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করলাম, স্বীকৃতি দিলাম, অংশগ্রহণ করলাম। বিএনপির চার শতাধিক নেতৃবৃন্দ, কর্মী, সমর্থক জীবন দিলো এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে। শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ছাত্র গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হলো।
তিনি বলেন, সেই অভ্যুত্থানের পরিণতিতে বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তির চির উৎখাত হলো। তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো, তারা আশ্রয় নিলো তাদের আশ্রয়দাতার দেশে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ আলমগীর, জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
দীর্ঘ ১১ বছর পর আয়োজিত এ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নেত্রকোণা শহর সেজেছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে। প্রথম অধিবেশন শেষে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ ভোটগ্রহণ চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর। ওই সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ উদ্দিন খান সভাপতি, অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং এস এম মনিরুজ্জামান দুদু সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে ৬৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ডা. মো. আনোয়ারুল হক আহ্বায়ক এবং ডা. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী সদস্য সচিব ছিলেন।