ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান আজ বলেছেন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ) গ্র্যাজুয়েশনকে শুধুমাত্র সরকারের অর্জন হিসেবে দাবি করা উচিত নয়, বরং এটি দেশের বেসরকারি খাত ও জনগণের সম্মিলিত জাতীয় অর্জন।
আজ শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির উদ্যোগে আয়োজিত এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা শীর্ষক ছায়া সংসদে এ কথা বলেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিনিয়োগ চাঙ্গা করতে হলে একটি ভালো নির্বাচন দরকার। কারণ বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল সরকারের নিশ্চয়তা চায়। আর সরকার ঘোষিত কাঙ্ক্ষিত সময়ে একটি ভালো নির্বাচন হলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হলে পোশাক খাতে বড় কারখানাগুলোর তেমন অসুবিধা না হলেও ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওষুধ শিল্পে প্যাটেন্ট সুবিধা থাকবে না বিধায় কিছু কিছু ওষুধের দাম বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। ওষুধ শিল্পে মূল্য বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবেলায় ঢাকার মুন্সিগঞ্জে এপিআই পার্কের কার্যক্রম ২০১২ সালে শুরু হলেও ২০২৫ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র মাটি ফেলা হয়েছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের জন্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বিগত সরকারের তথ্য বিভ্রাটে ব্যাংক সমূহে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৫ লাখ কোটি টাকা। তাই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সিঙ্গেল উইন্ডো, পোর্টে কম সময় ও লিড টাইম কমিয়ে আনার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রতিযোগিতায় প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, প্রফেশনাল একাউন্টেন্ট আবুল বশির খান, অধ্যাপক আল-আমিন ও সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম।
প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।