ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : ইরান যদি আগামী এক মাসের মধ্যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে, তবে ইউরোপীয় শক্তিগুলো নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টা থেকে সরে আসতে প্রস্তুত।
তবে তেহরান এই প্রস্তাবকে কপটতাপূর্ণ ও অসতর্ক বলে নিন্দা করেছে।
জাতিসংঘ থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি আগের দিন তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করেছে, যাতে করে ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে ব্যর্থ হলে, তার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনঃপ্রবর্তন করা যায়।
দেশ তিনটি ই৩ নামে পরিচিত।
জাতিসংঘে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বারবারা উডওয়ার্ড এই বিষয়ে একটি রুদ্ধদ্বার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে জার্মান ও ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের বলেন, জুলাই মাসে আমরা ইরানকে স্ন্যাপব্যাকের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন ইরান আমাদের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়।
তিনি আরও বলেন, আজ পর্যন্ত ইরান ই৩ এর অনুরোধ পূরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।
কিন্তু স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া চালু করা কূটনীতির সমাপ্তি চিহ্নিত করে না। সম্প্রসারণের প্রস্তাবটিও আমাদের টেবিলে রয়েছে।
কোপেনহেগেন সফরে, ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে ৩০ দিনের সময়সীমা কূটনীতির জন্য একটি ‘সুযোগ’ প্রদান করে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ৩০ দিন আছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে আলোচিত ২০১৫ সালের চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে হ্রাস করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চুক্তিটি কার্যকরভাবে ভেঙ্গে দেয়।
তখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন এবং ইরানের তেল কিনেছে এমন দেশগুলোর ওপর ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে কূটনীতির দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরাইল জুন মাসে ইরানের উপর হামলা চালায় এবং অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই হামলায় যোগ দেয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথও উন্মুক্ত রয়েছে।
ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের সময়সীমার কথাকে তেহরানকে ব্ল্যাকমেইলিং করার অভিযোগ করেছে ইরান।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, ই৩ অবাস্তব শর্ত পূর্ণ একটি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পেশ করেছে।
তারা এমন শর্ত দাবি করছে, যা আলোচনার ফলাফল হওয়া উচিত, সূচনা নয় এবং তারা জানে যে, এই দাবিগুলো পূরণ করা যাবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আবারও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সতর্ক করে দিয়েছেন যে ইউরোপীয় সিদ্ধান্তের উল্লেখযোগ্য প্রতিকূল প্রভাব পড়বে, যার মধ্যে জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের সাথে ইরানের সম্পর্কের উপরও রয়েছে। যাদের এই সপ্তাহে বুশেহর কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
রাশিয়া ও চীন ২০১৫ সালের চুক্তির আগে করা প্রস্তাবটি আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। ওই চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করেছিল।
রাশিয়া জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার চীনে একটি সমাবেশের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউরোপীয়দের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে, যা তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
ইরান বারবার বলে আসছে যে, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর তার অধিকার রয়েছে।