ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর গাজাকে একটি ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। গত প্রায় দুই বছর ধরে চলতে থাকা ধ্বংসাত্মক এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় শহর গাজাকে দখল নিতে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ানোর আগমুহূর্তে এমন ঘোষণা দিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
গাজায় ইসরাইলের ক্রমাগত আক্রমণের মুখে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমাতে এবং জাতিসংঘ কর্তৃক উপত্যকাটিকে দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী কিছুটা হলেও দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে বেশ চাপের মুখে রয়েছে।
তবে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী যুদ্ধ আরো ছড়িয়ে দিতে ও গাজা শহরের পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিতে সবরকমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে আজ দেশটির সেনাবাহিনীর একজন আরবিভাষী মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আর অপেক্ষা করছি না।’
আভিচায় আদরাই নামের ওই মুখপাত্র তার এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, গাজা শহরে আক্রমণের জন্য আমরা প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি এবং এই আক্রমণ এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা গাজা শহরের উপকণ্ঠে পূর্ণ শক্তি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছি।
ইসরাইলি সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির শুক্রবার এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেছেন, তার বাহিনী গাজা শহর এলাকায় আক্রমণ বৃদ্ধি করছে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে তাদের প্রচেষ্টা আরো তীব্র করা হবে।
এদিকে জাতিসংঘ তাদের এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজার স্বশাসিত অঞ্চলে এখন প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছে।
জাতিসংঘ গত সপ্তাহে গাজাকে দুর্ভিক্ষ অঞ্চল ঘোষণা করেছে। ইসরাইলকে মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে, যা তাদের মতে একটি ‘পরিকল্পিত বাধা’।
শুক্রবার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা শহর এখন ‘একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে’, এবং সীমিত খাদ্য সরবরাহের অনুমতি দেওয়া সামরিক কার্যকলাপে প্রতিদিনের বিরতি আর সেখানে প্রযোজ্য হবে না।
সামরিক বাহিনী জনগণকে অবিলম্বে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়নি। তবে আদ্রাই বলেছেন, এই সপ্তাহের শুরুতে শহরটি খালি করা ‘অনিবার্য।
শুক্রবার দক্ষিণ গাজা শহরে, এএফপি’র ফুটেজে দেখা গেছে, ইসরাইলি হামলার পর ফিলিস্তিনিরা একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসছে।
জাবালিয়া থেকে দক্ষিণ যাচ্ছিলেন ৪২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবু কামার বলেন, ‘আমার অন্তর পুড়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর ছাড়তে চাই না। আমাদেরকে কোনোরকম ত্রাণ সামগ্রী ছাড়াই উত্তর ও দক্ষিণ দিকে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।’
তিনি টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ক্লান্ত। ‘মৃত্যু আমাদের চারপাশে ঘনিয়ে আসছে’।