ঢাকা, ২০ মার্চ, ২০২৫ (বাসস) : আজ এখানে এক সংলাপে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড (এলএনওবি) গোষ্ঠীগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে সহায়তা করার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজের উপর জোর দিয়েছেন।
তারা উল্লেখ করেছেন, এলএনওবি গোষ্ঠীগুলোর জন্য এসডিজি প্রদান নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলন হওয়া জরুরি।
তারা আজ নগরীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় এসডিজি প্রতিবেদন (ভিএনআর) ২০২৫; এলএনওবি সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা’ শীর্ষক সংলাপে এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
এলএনওবি হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডার প্রতি একটি মূল অঙ্গীকার যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়, যাতে এসডিজি অর্জনে কেউ পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করা যায়।
সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এসডিজি সংক্রান্ত নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ যৌথভাবে জাতীয় এসডিজি প্রতিবেদন (ভিএনআর) ২০২৫ সংক্রান্ত গবেষণাটি প্রস্তুত করেছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, বাংলাদেশে সুইস রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এবং এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী (সিনিয়র সচিব) লামিয়া মোর্শেদ সংলাপের সমাপনী অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর বিশিষ্ট ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সমাপনী অধিবেশন পরিচালনা করেন।
সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান উদ্বোধনী অধিবেশনে ‘জাতীয় এসডিজি প্রতিবেদন (ভিএনআর) ২০২৫’-এর উপর একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা প্রদান করেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যদি কোনও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না থাকে, তাহলে তারা এই ইশতেহারগুলো গ্রহণ করবে না।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উন্নয়নের বিভ্রান্তিকর বর্ণনার পরিবর্তে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে অগ্রগতি অর্জন করলেও বৈষম্য রয়ে গেছে। সকলেই সমানভাবে উপকৃত হয়নি। উন্নয়নের সুযোগ ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান ও পটভূমির উপর নির্ভর করছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেলেও, এই উন্নতি সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
তিনি বলেন,‘স্কুলে ভর্তির হার ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু সকল দরিদ্র শিশু স্কুলে যায় না। সঠিক তথ্য ছাড়া, সকলের জন্য কার্যকর নীতি নির্ধারণ অসম্ভব।’
লামিয়া মোর্শেদ স্বীকার করেছেন যে, উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার বাইরে সম্প্রসারিত হয়নি এবং প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা সম্প্রদায়,শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, দলিত ও মহিলারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই সমস্যাগুলো মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন,সরকার নীতিমালা প্রণয়নের জন্য প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং আসন্ন জাতীয় এসডিজি রিপোর্ট (ভিএনআর) এই বাস্তবতাগুলিকে প্রতিফলিত করবে।
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন,বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ব্যাপক সংস্কার এজেন্ডা অনুসরণ করছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধতা চর্চা জোরদার করা,গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সম্মিলিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও সুষম উন্নয়নের জন্য সহায়ক একটি শক্তিশালী শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা রক্ষা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জোরদার করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে যুব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষতা উন্নয়ন জোরদার, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার বিষয়গুলো জাতীয় এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অবৈধ আর্থিক বহির্গমন মোকাবেলা এবং সরকারি অর্থায়নের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে।’
তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভূ-অর্থনৈতিক বিভাজনের মধ্যে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ স্বীকার করে যে, একটি যৌথ বৈশ্বিক উন্নয়ন মূলত শক্তিশালী বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং জলবায়ু অর্থায়ন, ঋণ মওকুফ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে এমন একটি ভবিষ্যত গড়ে তুলতে হবে যেখানে সমৃদ্ধি হবে অভিন্ন এবং কাউকে পিছনে না রেখে প্রতিটি ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।’