ঢাকা, ২০ মার্চ, ২০২৫ (বাসস) : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছেন, সরকার বৈষম্যমুক্ত কর কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট সভায় তিনি আরও বলেন, কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ এর অপব্যবহার হয় এবং সিস্টেমকে নষ্ট করে। এ ছাড়া দেশের বর্তমান মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থা ভ্যাট ব্যবস্থার প্রকৃত চেতনার কাছাকাছি নয়। বর্তমানে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ, ৭.৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ যা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তারা নিজেরাই এই ক্ষতি ডেকে এনেছেন, এখন তারা তা অনুভব করছেন।
তিনি আরও বলেন, যদি ব্যবসায়ীরা একমত হন, তাহলে এনবিআর ভ্যাট হার কমাবে, তবে ভ্যাট হার একক অঙ্কের হওয়া উচিত।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট হার বিভিন্ন স্তরে নির্ধারিত হওয়ার কারণে, পণ্য ক্রয়কারী ভোক্তারা উচ্চ মূল্যের চাপ অনুভব করেন। ভ্যাট আদায়ের সঙ্গে পণ্যের দামের সম্পর্ক রয়েছে।
আব্দুর রহমান আরও বলেন, সরকার যথাযথভাবে ভ্যাট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতির হার খুব বেশি হবে না। মূল্যস্ফীতির হার ফেব্রুয়ারিতে আরও হ্রাস পেয়ে ৯.৩২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এই বছরের জানুয়ারিতে ৯.৯৪ শতাংশ ছিল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, খাদ্যের দাম হ্রাসের কারণে মূলত মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়ে ৯.২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জানুয়ারিতে ১০.৭২ শতাংশে ছিল।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান ভ্যাট প্রদানকারীরা ক্রমশ বেশি চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হননি তাদের কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ভ্যাটে আরও শৃঙ্খলা থাকা উচিত। ভ্যাট ও আয়কর থেকে আরও বেশি রাজস্ব আসা উচিত। পুরো ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় ভ্যাট চালু হলে কেউই ভ্যাটের বাইরে থাকবে না। ভ্যাট আদায়ও বাড়বে।