ঈদের আগে দ্রব্যমূল্যের নিম্নগতি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে

বাসস
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৫, ২০:০০
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৫ মার্চ, ২০২৫ (বাসস) : রাজধানীর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বিশেষ করে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানের জিনিসপত্রের দাম নিম্নমুখী, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও তালতলা বাজার, রামপুরা বাজার, মতিঝিল এজিবি কলোনি কাঁচা বাজার, খিলগাঁও বৌবাজার ও শান্তিনগর বাজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাবাজার ঘুরে বাসস’র প্রতিনিধি দেখতে পেয়েছেন, ক্রেতারা সাধারণত তাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী যা প্রয়োজন, তা কিনতে পারছেন।

বউবাজারে খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. করিম বাসস’কে জানান, তিনি ঈদের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এখানে এসেছেন।

তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সন্তোষজনক।

মো. করিম আরো বলেন, আমি সবসময় আমার বাড়ির কাছে খিলগাঁও বৌবাজারে কেনাকাটা করি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কম থাকায় এখানকার সকলেই স্বস্তি বোধ করছেন। 

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কঠোর বাজার তদারকি ও পদক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালের রমজানের তুলনায় চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ, শসা, আলু, টমেটো, ডিম, রসুন, কাঁচা ও শুকনো মরিচ, আদা ও সেমাইসহ বেশিরভাগ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসিন্দা সামসুল হুদা বাসস’কে বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দাম স্বস্তিদায়ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছরের রমজানে সবজির কম দাম সকল আয়ের ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে। এ বছর মাছ, মাংস ও মুরগিরও দাম মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

শহরের বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনকালে দেখা গেছে যে, বয়লার মুরগি প্রতি কেজি যথাক্রমে ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালী ২৮০-২৯০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০-৫৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় ১০-৩০ টাকা কম।

খাসির মাংস প্রতি কেজি প্রায় ১১০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০-৫০ টাকা কম।

স্থানীয় রুই মাছ (দেড় থেকে দুই কেজি জীবিত) ৩০০-৪৫০ টাকায় ও আমদানি করা রুই (২ থেকে ৩ কেজি) ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বাসস’কে বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে রমজান আসার সাথে সাথে মাছের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে, চিনি প্রতি কেজি এ বছর ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ১৪০-১৫০ টাকা ছিল।

সাধারণ খেজুরের দাম ২২০-২৫০ টাকা থেকে কমে ১৮০-২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মাঝারি ও প্রিমিয়াম মানের খেজুর যথাক্রমে ৪৫০-৮০০
টাকা ও ১,০০০-১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- গত বছরের তুলনায় ৩০-২০০ টাকা কম।

দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে- যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত বছর দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা।
আলু ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে- যা গত বছর ছিল ২৫-৩৫ টাকা।

এছাড়াও, শীতকালীন সবজির দাম গত রমজানের তুলনায় কেজি প্রতি ৫-২০ টাকা কমেছে। 

মতিঝিল এজিবি কলোনির কাঁচা বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক বলেন, সরকারের তদারকির ফলে আগের বছরের তুলনায় এ বছর দাম কম।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন
৫ মিলিয়ন ডলারের ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
মাদক বহনের দায়ে গ্রেফতার কির্টন
চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত 
উৎসবমুখর পরিবেশে সাইকেল লেন দিবস উদযাপিত
বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার প্রধানের বৈঠক 'আশার আলো' তৈরি করছে: মির্জা ফখরুল
সাতক্ষীরায় দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের টিম ওয়ার্ক, ঈদের বন্ধে চট্টগ্রামে ১০৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন
প্রধান উপদেষ্টা থাইল্যান্ডকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন 
নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজনীতির আমূল পরিবর্তন করতে চায় এবি পার্টি
১০