ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি অবাদ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে সক্ষম হবে। আমি তাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব দেখিনি।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি যে, নির্বাচন যে হবে, সেই হওয়ার ক্ষেত্রে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের বিষয়ে তো আমাদের এখনো সংশয় রয়েছে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি দায়িত্বে রয়েছে। আসলে এটা কতটুকু হওয়া সম্ভব বা কতটুকু করা যায়, এই নির্বাচন কমিশনের সেই সক্ষমতা রয়েছে কি-না? সেই বিষয়গুলো আমরা জানতে চেয়েছিলাম। তারা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা এও জানি যে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দোসররা বসে আছে। একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে বিঘ্নিত হয়, সে জন্য নানা ধরনের কলাকৌশল ও সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত নানাভাবে যুক্ত রয়েছে তারা।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ইসি তো একটা প্রশাসন। যদিও এটা একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট বডি। তবে এটা রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন সত্তা। রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন,সর্বক্ষেত্রে, আপনার সিভিল প্রশাসন বলুন। সেখানেও যেমন রয়েছে, অনেক ঘটনা দেখছি অনেক কিছুই হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের সেটাই জানতে চাওয়ার ছিল যে, দোসররা এখানে কি ধরনের অবস্থান করছে? তারা কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি-না। এগুলো আমরা তাদেরকে প্রশ্ন করেছি। তিনি বলেছেন যে, না আমরা সবকিছু বিবেচনা করে সবকিছু দেখে শুনে স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে কোন ধরনের কোন বিঘ্ন না ঘটে। কোন ধরনের কোন কালিমা যাতে লিপ্ত না হয়, সে ব্যাপারটা তারা সুচারুভাবে দেখছেন। তিনি আরো বলেন, একটা অবাদ সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য যে প্রস্তুতি দরকার নির্বাচন কমিশন সেই প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। সে ব্যাপারে তাদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস রয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা এসেছিলাম নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলার জন্য। আমরা দুজন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জানতে এসেছি, প্রবাসীদের ভোটের কী অবস্থা এবং তারা ভোট দিতে পারবে কি-না এবং তাদের অগ্রগতি কেমন।
তিনি বলেন, আমরা উনাদের বক্তব্য শুনলাম, পোস্টাল ব্যালোটের মাধ্যমে তাদের ভোট হতে পারে। এটা নিয়ে তারা কাজ করছেন। আর সংসদীয় আসনের নির্ধারণের সর্বশেষ পরিস্থিতি কি? এগুলো উনারা আমাদের জানালেন।
তিনি বলেন, আমরা সামগ্রিকভাবে তাদের প্রস্তুতি কতটুকু সেই বিষয়টা জানতে এসেছি। উনাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সেটা আমাদেরকে বলেছেন।
পিআর পদ্ধতি নিয়ে কিছু দলের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন একটা অবাদ সুষ্ঠ নির্বাচন এই মুহূর্তে করার জন্য যে কাজগুলি করা দরকার, সেই পদক্ষেপগুলো তারা গ্রহণ করছেন। সাংবিধানিক যে দায়িত্ব ইসি’র ওপর প্রদত্ত হয়েছে, সেই অনুযায়ী তাদের যে কাজগুলো করার, সেই কাজগুলো তারা করে যাচ্ছেন। আমরা মূলত তাদের প্রস্তুতি সম্পার্কে জানার জন্য এসেছিলাম। তিনি আরো বলেন, আরপিওতে বিধিবদ্ধ যে বিধানগুলি আছে এবং বিধিবদ্ধ যে আইনগুলো রয়েছে, সেই আইনগুলো দিয়েই জনগণের মধ্যে একটা আস্থা তৈরি হওয়া প্রয়োজন। নির্বাচনের ব্যাপারে গত ১৬ বছরে যে আস্থাটা উঠে গেছে, সেই আস্থাটি নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা পরিচিতি আছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তার মত একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার ওপর যেভাবে আক্রমণ হয়েছে, এটা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা কখনোই একটা গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দলের মহাসচিব একটা নিরপেক্ষ সুষ্ঠ তদন্ত করে, যারা এর সাথে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। একটা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত যারা দায়ী, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।